আদালতে আত্মসমর্পণ কিশোর গ্যাং নেতা বগার, পাঠানো হলো কারাগারে

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে অভিযুক্ত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহীদুল ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াকিল হোসেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও জবরদখলসহ মোট ২৩টি মামলার আসামি বগা। তিনি মূলত প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে একাধিক কিশোর গ্যাং পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় ওয়াকিল হোসেনকেও আসামি করা হয়।

বগার বিরুদ্ধে অপরাধের তালিকা দীর্ঘ। গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় খুলশী থানায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি তিনি। এ মামলার সূত্র ধরে গত ৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বগার অনুসারীরা হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এতে তৎকালীন খুলশী থানার ওসি আবদুর রহমানসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং বগা সুড়ঙ্গপথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে, ১৩ সেপ্টেম্বর বগার বাবা উল্টো ওসি আবদুর রহিমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশি অভিযানে সুরঙ্গ কেটে পালিয়ে যাওয়া, পুলিশের ওপর হামলা, খুলশী থানা পুলিশের গ্রেপ্তার এড়ানো ও পরে সেই থানার ওসিকেই রাতারাতি বদলির ঘটনায় আলোচনায় আসেন বগা। এছাড়া গত ২৯ আগস্ট নগরীর পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক খুলশী থানায় মামলা করেন। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশের ওপর হামলা, সুড়ঙ্গ দিয়ে পালানো এবং ওসিকে রাতারাতি বদলিসহ নানা ঘটনায় বগা নগরীর অপরাধ জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চাঁদাবাজির একটি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হলো এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠালেন।