আয়বহির্ভূত সম্পদ: সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি বেলায়েত হোসেন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এসব সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, আসামী বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছিল। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম ২০০৯ সালের ২০ জুলাই এই মামলার বাদী হন। বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। মামলায় দুদকের পক্ষে আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, চাকরিতে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বেলায়েত হোসেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকা। এছাড়া আয়কর নথিতে তার ঘোষিত ব্যয় ছিল ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। সব মিলিয়ে তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা। বৈধ আয়ের উৎস বিবেচনা করে ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দুদকের কাছে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত হোসেন ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, তিনি তার নামে থাকা ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন। তিনি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য চেপে যান। আদালত এই অনিয়মের দায়ে তাকে দুটি ধারায় সাজা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৬(২) ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।