সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে ফাঁকলেন আরেক সাংবাদিক

প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ সম্পাদক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। এর ফলে উল্টো মামলার বাদী এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও এসআই নুর আলম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে অভিযুক্ত সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি মিথ্য অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দৈনিক প্রলয়ের নির্বাহী সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন মডেল থানায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্তে নামে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, সাংবাদিক বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে খায়রুল আলম রফিক বাদীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি মামলায় উল্লেখিত সাক্ষী মির্জা সোবেদ আলী রাজাকে পত্রিকায় পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

তবে তদন্ত চলাকালে বাদী শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়ে অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন ও সাক্ষী হাজির করতে বলা হলেও তিনি কোনো নথিপত্র বা গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য দিতে পারেননি। এমনকি অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার স্থান ও সময় মিলিয়ে দেখার পর সেখানে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তে স্পষ্ট হয়, ঘটনার কথিত সময়ে বাদী নিজেই ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, খায়রুল আলম রফিককে অহেতুক হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে বাদীর বক্তব্য জানতে শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শহিদুল ইসলাম একসময় তাঁর প্রতিষ্ঠানে কিছুদিনের জন্য কাজ করেছিলেন। কিন্তু প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই আক্রোশ থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ জমা দিয়েছেন, যার একটিও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, শহিদুল ইসলামকে যেন আল্লাহতালা হেদায়েত করেন।

আইনগত বিষয় ব্যাখ্যা করে সুপ্রিম কোটের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েম রেজা জানান, দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ আনলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধের ধরণ ও সার্বিক মাত্রা বিবেচনা করে এই ধারায় কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের শাস্তির সুযোগ রয়েছে। এদিকে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েম রেজা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ ধারায় মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্।

পুলিশের জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মিথ্যা মামলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসায় এখন বাদীর বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। তদন্তে জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রমাণ না পাওয়ায় খায়রুল আলম রফিককে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নির্দোষ হিসেবে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।