উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: চারজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬ কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসনের বিশেষ কমিটি। রোববাব সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বৈধতা ও অবকাঠামোগত ত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখেন। তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন। ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। তবে অপর চারজনের দেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। ডিএনএ পরীক্ষার পর কোনটি কার লাশ সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রেক্ষিতে উখিয়া থানায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। মামলার বাদী হয়েছেন উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর। এতে রিসোর্টের অন্যতম মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় মোট চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে, যাদের মধ্যে নেওয়াজ মোর্শেদের নামও অন্তর্ভুক্ত। শনিবার আটক রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রিসোর্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় থাকা নারী-পুরুষেরা চিৎকার-দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, রিসোর্টটি সরকারি কোনো অনুমোদন বা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। মেরিন ড্রাইভের পাশে ২০ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কাঠের তিনতলা রিসোর্টটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। ভবনটির খুঁটি ঝাউ ও আকাশমণি গাছ দিয়ে তৈরি এবং মেঝে কাঠের পাটাতন দিয়ে করা ছিল, যা দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে। ভবনের চারপাশের দেয়াল ইট-পাথরের হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মেঝে কাঠের পাটাতন দিয়ে করা। এরপর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে রিসোর্টটিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টের ভেতরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে অনেকে দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। কয়েকজনকে দ্বিতীয়তলা থেকে নিচে লাফ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মোট ১০ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। আগুনের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। SHARES অপরাধ বিষয়: অগ্নিকাণ্ডউখিয়াটুপটুপ রিসোর্টডিএনএতদন্ত