বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের খরচ লাফিয়ে বাড়ল, ব্যারেলপ্রতি ভাড়া ২০ ডলার প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬ ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ব্যয় তীব্রভাবে বেড়ে গেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে তেলের গড় পরিবহন ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার থেকে লাফিয়ে ২০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা, যুদ্ধঝুঁকি এবং পথচলা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই পরিবহন ব্যয়কে এই পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে তেল পরিবহনের এই চড়া মাশুল কমছে না। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের দেওয়া তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নৌপথগুলোতে তেল পরিবহনের মাশুল ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ৩৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির যুদ্ধঝুঁকি বাবদ অতিরিক্ত ৭ ডলার, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ৪ ডলার এবং ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের বাড়তি ঝামেলার জন্য ৪ ডলার খরচ যোগ হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও তার প্রভাব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বুধবারে অর্জিত বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ১০৯ দশমিক ৩৪ ডলার। একই দিনে অপর অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে। চলমান ইরান সংঘাতের প্রভাবে তেলবাহী বিশালাকার সুপারট্যাংকারগুলোর দৈনিক ভাড়াতেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সুপারট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ছিল ১০ লাখ ডলার। অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগর থেকে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তেল পৌঁছাতে এই দৈনিক ভাড়া ১৪ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরিবহন ব্যবস্থার চরম অচলাবস্থার কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে বিশালাকার ট্যাংকারগুলোকে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট ছোট জাহাজে তেল ঢালা হচ্ছে, যাকে বাণিজ্যিক ভাষায় ‘শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার’ বলা হয়। এতে জাহাজগুলোর মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক সীমায় সুপারট্যাংকারগুলো আটকে থাকায় বিশ্বজুড়ে ব্যবহারের উপযোগী বড় জাহাজের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট থেকে বাঁচতে তেলের উৎপাদক ও ক্রেতারা আফরাম্যাক্স এবং সুয়েজম্যাক্সের মতো তুলনামূলক ছোট আকৃতির ট্যাংকার ব্যবহার করে পরিবহন সচল রাখার চেষ্টা করছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহের এই সংকট ও পরিবহন মাশুল বৃদ্ধির ধারা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের আমদানিভিত্তিক দেশগুলোর জ্বালানি আমদানির খাত এক চরম সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিপুল বাড়তি ব্যয় তৈরি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫। নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত SHARES অর্থনীতি বিষয়: ইরান সংকটগোল্ডম্যান স্যাকসজ্বালানি তেলতেল পরিবহনবিশ্ব-অর্থনীতিহরমুজ প্রণালি