মহাস্থানগড়ে স্থাপনা নির্মাণে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করল সরকার প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রাথমিক তালিকায় থাকা বগুড়ার আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মহাস্থানগড় নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে সরকার। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি এবং ২০২০ সালের ৫ মার্চ দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ৫ হাজার ২৭৯ দিন বিলম্ব মার্জনা চাওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের রোববারের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য আবেদনটি পাঁচ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। আবেদনকারী হিসেবে সংস্কৃতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বগুড়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মহাস্থানগড়ের কাস্টোডিয়ান এবং শিবগঞ্জ থানার ওসিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লিভ টু আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে মহাস্থানগড়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত মহাস্থানগড় মসজিদ উন্নয়নকাজও এই আদেশের কারণে শুরু করা যায়নি। এর আগে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) মহাস্থানগড়ে অবৈধ দখল, মাজার সম্প্রসারণ এবং খনন বন্ধে রিট করলে হাইকোর্ট ২০১২ সালে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আবারও আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েনের নির্দেশনা দেন। মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবৈধ দখল প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এবং প্রত্ন স্মারক এলাকার পূর্ব পাশে ২০০ ফুট দূরে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করতে রায়ে বলা হয়। মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় দখল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আগের রিটের সূত্র ধরে ২০২০ সালে একটি আবেদন করে এইচআরপিবি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দাবি, ১৯৭৬ সালের পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী এই এলাকায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অধিদপ্তরের অভিযোগ উপেক্ষা করে মাজারসংলগ্ন এলাকায় নারী মুসল্লিদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণের জন্য মাটি খনন করা হলে, ১৭ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধের অনুরোধ জানায়। মাজার কমিটির উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মুসল্লিদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ওই নামাজঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, 'হাইকোর্টের আদেশের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে, এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে। আদালত যে আদেশ দেবেন, সরকার সেই আলোকেই পদক্ষেপ নেবে।' তবে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানিয়েছেন, লিভ টু আপিলের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। জেলা প্রশাসক জানান, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প হাইকোর্টের আদেশের পরিপন্থী হওয়ায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। SHARES জাতীয় বিষয়: আপিল বিভাগপ্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরবগুড়ামহাস্থানগড়হাইকোর্ট