নেপালি শিক্ষার্থীদের পাশে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পাশে আমতলায় আয়োজিত এক কর্মসূচিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেপালি শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির শুরুতে নেপালের দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এরপর নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নেপালি শিক্ষার্থীরা তাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক ও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান। ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই বলেন, তার জন্মভূমিতে নেমে আসা এই বিপর্যয় অগণিত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং অনেক পরিবারকে আশ্রয়হীন করেছে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। অপর শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ জানিয়েছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছেন। এছাড়া দিবাকাস কাফলে নেপালের দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে বাকৃবি পরিবার নেপালের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে।