জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণ প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খ্যাতিমান মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৮ জুলাই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন নোমানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইরিন জুবাইদা খান এর আগে ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ছিলেন এই পদে কাজ করা প্রথম নারী। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ২০০১ সাল থেকে আট বছর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার কর্মজীবনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ল স্কুলের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ২১ বছর জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে কাজ করেছেন, যার মধ্যে ভারতে মিশন প্রধানের দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১০-২০১১ সময়ে তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করা আইরিন খান মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালের সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছেন। SHARES জাতীয় বিষয়: আইরিন খানজাতিসংঘবাংলাদেশমানবাধিকারস্থায়ী প্রতিনিধি