রিয়াদে আরামকো টাওয়ারে হুতিদের হামলা, ইয়েমেনে বিমান হামলায় নিহত ৭২ প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২৬ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে (কেএএফডি) অবস্থিত আরামকো টাওয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বহুতল ভবনটির বেশ কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, কেএএফডি এলাকায় আরামকো টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা আঘাত হানার পর ভবনের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে এবং সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক ভবনটিতে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং বিস্ফোরণের ফলে ছিটকে আসা ধাতব টুকরার আঘাতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যবশত এতে কেউ আহত বা নিহত হননি। যে এলাকায় এ হামলা হয়েছে, সেখানে সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও মেট্রোস্টেশন রয়েছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে চালানো এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে আরও তীব্র করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইন ক্লাস চলছিল। তবে গত শনিবার রাতে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সশরীর শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আরামকো টাওয়ারে হামলার ঘটনাটি ঘটল। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা হুতি মিলিশিয়াদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের আটটি প্রদেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি। রাজধানী সানার পূর্বাঞ্চলীয় বনি হুশাইশ এলাকাটি এই বিমান হামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সেখানে সৌদি জোটের হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হন। এ ছাড়া ইয়েমেনের অন্যান্য স্থানে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সানার সেহাতুনা হাসপাতালের পরিচালক আবদুল-আজিজ আল-দাইলামি জানান, হামলায় আহত ব্যক্তিদের মাথা, বুক ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অনেকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে তাঁদের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে নতুন করে এই সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লাখের বেশি বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত জুলাই মাস থেকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক মাসে হুতিরা সৌদি আরামকোর তেলবাহী জাহাজ, শোধনাগার, সংরক্ষণাগার এবং প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইয়েমেন সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যরিয়াদসৌদি আরামকোসৌদি-আরবহুতি হামলা