চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শ্রীমাই খালে নির্মাণাধীন মাল্টিপারপাস হাইড্রলিক এলিভেটর ড্যাম প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১১০৮ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে প্রায় ১১০৮ হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে।
৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ চলছে
শ্রীমাই খালের উভয় তীরে প্রায় ৪.৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ হবে এবং স্থানীয় বসতভিটা ও কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকবে। প্রকল্পটি মোট পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হচ্ছে—একটি ড্যাম নির্মাণ এবং চারটি তীর সংরক্ষণ কাজ।
ইকো-ট্যুরিজম ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা
এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
নতুন হাইড্রলিক এলিভেটর ড্যাম প্রযুক্তি
হাইড্রলিক এলিভেটর ড্যাম (HED) প্রযুক্তি দেশের জন্য তুলনামূলক নতুন। এটি প্রচলিত রাবার ড্যামের চেয়ে বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। পানি সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নদীর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকৌশলীর বক্তব্য
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন,
“প্রাথমিক পর্যায়ে নকশা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও বর্তমানে কাজ দৃশ্যমান অগ্রগতিতে রয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আশাবাদী। বিশেষ করে তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম চলতি অর্থবছরের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”