স্টাফ রিপোর্ট
সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। তবে কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
কমিশনের সুপারিশে বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা বেতন কাঠামো রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে, প্রাপ্ত তিনটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ তৈরিতে গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে মোট ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। যদিও গ্রেড সংখ্যা আগের মতোই ২০টি রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ১:৯.৪। বর্তমান ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবং সিনিয়র সচিবদের জন্য ২০টি গ্রেডের বাইরে আলাদা বেতন ধাপ নির্ধারণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হতে পারে।