নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় ও অনিয়মের কারণে জনগণের ওপর ঋণের বোঝা বেড়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী টানেলের ওপারে অত্যন্ত বিলাসবহুল কিছু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেখানে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অডিটর জেনারেলের তদন্ত প্রতিবেদনে টানেলের দু’পাশে গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য উঠে এসেছে, অথচ বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “আমি কাউকে রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ করছি না। তবে দেশের বাস্তব অবস্থা জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। উন্নয়নের নামে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হলে শেষ পর্যন্ত সেই দায় জনগণকেই বহন করতে হয়।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশিদের জন্য নির্মিত আবাসনে অস্বাভাবিক দামে আসবাবপত্র কেনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি বালিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং একটি ড্রেসিং টেবিলের দাম ধরা হয়েছে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।
তিনি আরো বলেন, “এই ধরনের ব্যয় রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত ঋণের চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশের ২০ কোটি মানুষের মাথার ওপর সেই ঋণের বোঝা এসে পড়ছে।”
পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যদি অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অনিয়ম না হতো, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরো বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের প্রায় প্রতিটি খাত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মতো একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করা না গেলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।