আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরে কোরবানির পশুর বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না হলে দুর্গন্ধ, রোগবালাই ও জলাবদ্ধতার মতো মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগরবাসী ও বিশেষজ্ঞরা।
প্রতি বছর ঈদের সময় চট্টগ্রাম নগরে লক্ষাধিক পশু কোরবানি করা হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, হাড়, চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য তৈরি হয়, যা দ্রুত অপসারণ না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই পচে গিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রাস্তাঘাট, খোলা জায়গা ও ড্রেনের পাশে ফেলে রাখা হয়। এতে করে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পচনশীল বর্জ্য থেকে উৎপন্ন ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ নানা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
অন্যদিকে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না হলে তা নালা-নর্দমায় প্রবেশ করে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এতে অল্প বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত স্থানে দ্রুত বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করলে এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ ঈদের সময় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করলেও জনবল ও যানবাহন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত ও সঠিকভাবে অপসারণ না করা হলে চট্টগ্রাম নগরে শুধু দুর্গন্ধ নয়, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলাবদ্ধতার মতো বড় ধরনের নগর সংকট সৃষ্টি হতে পারে।