জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গত ৪ মে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে ২১ মে পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং বাকি ১১ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সফরের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণের সব ব্যয় বহন করছে পাকিস্তান সরকার। বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক ব্যয় এতে নেই। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দেশে ফিরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
একসময় ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ভারতে পাঠানো কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি দল ভারত সফর করেছিল বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতে প্রশিক্ষণের সময় মূলত দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম ঘুরে দেখানো হতো। গত এক দশকে প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মনে করছেন।
এদিকে, নতুন করে ভারতও বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (আইটিইসি) কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিতে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। যদিও এবার প্রশিক্ষণ হবে বহুজাতিক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে, ফলে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সুযোগ তুলনামূলক কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে প্রশিক্ষণ শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।