রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকায় যে বাড়িটিতে কয়েকদিন আগেও বিয়ের প্রস্তুতি ও আনন্দের আমেজ ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা, ছোট ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন—সবই একসাথে সাজানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নভরা বাড়িটিই এখন চার সহোদরের নিথর দেহ ফেরার অপেক্ষায় স্তব্ধ হয়ে আছে।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায়। অসুস্থ বড় ভাইকে ক্লিনিকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন চার ভাইয়ের মধ্যে তিনজন। চিকিৎসকের সিরিয়ালের অপেক্ষায় গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে প্রাণ হারান। মৃত্যুর আগে এক ভাই সাহায্যের জন্য ভয়েস মেসেজ পাঠালেও ততক্ষণে সময় শেষ হয়ে যায়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় বিষাক্ত গ্যাসকেই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওমান বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে পৌঁছাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের স্তব্ধতা। পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা ভাই ও স্বজনরা গভীর মানসিক আঘাতে ভেঙে পড়েছেন। যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর অপেক্ষা—চার প্রবাসী শ্রমজীবী ভাইয়ের শেষ বিদায়ের জন্য।