কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, বনভূমিতে প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিরোধ। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানের জমি দানকে পুঁজি করে পরবর্তীতে সেটিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশের কয়েকটি মূল্যবান জমি নিয়েও দখলের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বনবিভাগের স্টাফদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারি জমি ও বনাঞ্চল ঘিরে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, বনবিভাগের জায়গায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে।
ছাইরাখালী ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বহু বছর ধরে বসবাস করলেও এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে আছি। এখন রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
এছাড়া স্থানীয় একটি মৎস্য প্রকল্প ও চাষযোগ্য জমি নিয়েও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে বিভিন্ন নাটকীয় ঘটনাও সাজানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, অতীতে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় না থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এমন কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দলীয়ভাবে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।