বৃহস্পতিবার বিপিসির প্রশিক্ষণ, সাবসিডিয়ারি প্রশাসন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জারি করা এক তাগিদপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই চিঠি যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এমডির দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বিটুমিন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যমুনা অয়েলে পে-অর্ডার জমা দেয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত বিটুমিন পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আবদুস সামাদ দাবি করেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন থাকলেও বিটুমিন সংকটের কারণে কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, গত ৫ মে বিটুমিন সংগ্রহের আশায় ঠাকুরগাঁও থেকে চট্টগ্রামে যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ে আসেন। সারাদিন অপেক্ষার পর তাঁকে জানানো হয়, তাঁর সিরিয়াল নম্বর ৯৫ এবং ওই সময় বিটুমিন সরবরাহ করা সম্ভব নয়। একেক সময় একেক সিরিয়াল নম্বর দেখিয়ে তাঁদের ঘুরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও বিটুমিন না পাওয়ায় পে-অর্ডার ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নজরে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরই বিশেষ ব্যবস্থায় বিটুমিন সরবরাহ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যমুনা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. মাসুদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুরো বিটুমিন সরবরাহ ব্যবস্থা অনলাইনভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কারও সিরিয়াল পরিবর্তন বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ৮০-১০০ গ্রেডের বিটুমিন চেয়েছিল। কিন্তু ওই সময় ইস্টার্ন রিফাইনারি শাটডাউনে থাকায় ওই গ্রেডের উৎপাদন বন্ধ ছিল। এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো জমা না দেওয়ায় আবেদনকারীর সিরিয়াল পিছিয়ে যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাসুদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রীর ফোন পাওয়ার পর বিশেষ বিবেচনায় ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পুরোনো বিটুমিন গলিয়ে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন সরবরাহ করা হয়েছে, যদিও আবেদন ছিল ভিন্ন গ্রেডের জন্য। তাঁর ভাষ্য, নিয়মের বাইরে গিয়েই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। সরকার ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই দায়িত্ব পালন করেছি।”
এদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।