রবিবার সকালে নগরীর দুই নম্বর গেটে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। পুলিশ সুপার জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও ঘটনার কথা শুনেছেন। অতীতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ছিল বহুল আলোচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান এবং ধারাবাহিক কার্যক্রমে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এলাকায় আপাতত দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সমন্বয়ে বড় পরিসরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও পুলিশ একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি অবকাঠামোগত পরিবর্তনও আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাদক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাসুদ আলম। তিনি বলেন, কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করছে এবং চট্টগ্রাম সেই রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার পশুর হাট, মহাসড়ক ও গরু পরিবহনে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথাও জানান তিনি। ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের টাকা বহনে চাইলে পুলিশি সহায়তা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন।
সভায় অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং জনবান্ধব সেবা নিয়ে নিজেদের কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে জেলা পুলিশ। গণমাধ্যমকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ সুপার।