চট্টগ্রাম নগরীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পশুর হাটগুলো। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও অন্যান্য কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে নগরীর বিভিন্ন বাজারে। ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় হাটগুলোতে এখনই ব্যস্ততার আভাস মিলছে।
নগরীর বিভিন্ন অস্থায়ী ও স্থায়ী হাটে ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। হাট সংস্কার, বাঁশের ঘেরা তৈরি, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। যদিও এখনো পুরোপুরি বেচাকেনা শুরু হয়নি, তবে বেপারিদের আশা—শনিবার থেকে বাজারে জমে উঠবে প্রাণবন্ত কেনাবেচা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মূলত পশু আনা ও বাজার সাজানোর কাজ চলছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আসতে শুরু করায় হাটে ধীরে ধীরে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে দুটি অস্থায়ী পশুর হাট এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় পাঁচটি বাজার ইজারা দিয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে আরও তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
কর্ণফুলী পশু বাজারের ইজারাদার মো. ইব্রাহিম সওদাগর জানান, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু আসছে। তবে এখনো বড় পরিসরে বেচাকেনা শুরু হয়নি। তিনি আশা করছেন, শনি-রবিবার থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে।
অন্যদিকে বিবিরহাট পশুর হাটের ইজারাদার মো. ইসমাইল বলেন, হাটে পশুর আগমন বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক ট্রাক গরু এসেছে। আগামী দিনে সরবরাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনুমোদিত হাটগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং নগরীতে অনুমোদন ছাড়া কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, খামারি ও বেপারিরা দেশি জাতের পাশাপাশি বড় আকারের গরু নিয়ে আসছেন। অনেকেই শেষ মুহূর্তের বিক্রির জন্য অনলাইন মাধ্যমেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই চট্টগ্রামের পশুর হাটে জমে উঠছে কোরবানির আমেজ। ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রত্যাশা—আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো বাজারে ফিরবে পূর্ণ প্রাণচাঞ্চল্য।