বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু প্রকাশিত: 10:01 PM, July 21, 2026 চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী শনিবার থেকে জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে দপ্তরের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, এই কর্মসূচি কেবল একদিনের জন্য নয়, বরং এটিকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রথাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। এই কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হবে। সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে, যা পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সংগ্রহ করবে। সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে ইতিমধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মেয়র নাগরিকদের ডাবের খোসা, বোতল বা ছোট পাত্রে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য জানাতে আহ্বান জানান। বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দকৃত যানবাহন ও মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির তাগিদ দেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) জানান, ছাদে পানি জমলে সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিটিআই প্রয়োগ করা হবে। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরেদের পুনর্বাসনের দাবি জানালে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে বলেন। আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে এই কার্যক্রম জোরদার করা হলেও, জেলা প্রশাসক জানান এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার অংশ। SHARES সারাদেশ বিষয়: চট্টগ্রামজেলা প্রশাসনডেঙ্গু প্রতিরোধপরিচ্ছন্নতা অভিযানবাসযোগ্য শহর