চলন্ত সিঁড়ির দুপাশে কালো ব্রাশ কেন থাকে? জানুন আসল কারণ

প্রকাশিত: 10:00 AM, July 30, 2026

বর্তমান সময়ে শপিং মল, মেট্রো স্টেশন, বিমানবন্দর কিংবা বড় বড় ভবনে চলন্ত সিঁড়ি বা এসকেলেটর ব্যবহার করা খুবই সাধারণ বিষয়। এতে সিঁড়ি ভাঙার কষ্ট ছাড়াই সহজে এক তলা থেকে অন্য তলায় যাওয়া যায়। তবে চলন্ত সিঁড়িতে ওঠার সময় অনেকেই ধাপের দুই পাশ বরাবর লাগানো কালো ব্রাশের মতো অংশটি লক্ষ্য করেন। অনেকেরই ধারণা, এই ব্রাশটি সম্ভবত জুতোর ময়লা পরিষ্কার করার জন্য বসানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আসলে এই কালো ব্রাশটি এসকেলেটরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

চলন্ত সিঁড়ি চলার সময় ধাপের পাশ ও সাইড প্যানেলের মাঝে খুবই সরু একটি ফাঁক তৈরি হয়। এই জায়গাটি ছোট হলেও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অসাবধানতাবশত ঢিলেঢালা পোশাক, শাড়ি বা ওড়নার অংশ, জুতোর ফিতে কিংবা শিশুদের নরম জুতো ওই ফাঁকে আটকে যেতে পারে। একবার কিছু আটকে গেলে চলন্ত যন্ত্র সেটিকে ভেতরের দিকে টেনে নিতে পারে, যা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

প্রযুক্তিগতভাবে এই ব্রাশকে স্কার্ট ডিফ্লেকটর বলা হয়। এটি মূলত দুটি উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রথমত, ব্রাশের শক্ত রোঁয়াগুলো মানুষকে ধাপের একেবারে কিনারায় দাঁড়াতে নিরুৎসাহিত করে, ফলে পোশাক বা জুতোর অংশ বিপজ্জনক ফাঁকের কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। দ্বিতীয়ত, এটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। যদি কারও পা বা পোশাক পাশের দেওয়ালের খুব কাছে চলে আসে, তবে ব্রাশটি তা স্পর্শ করে। সেই খসখসে অনুভূতি মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ভেতরের দিকে সরে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে।

বিশ্বজুড়েই অসাবধানতার কারণে চলন্ত সিঁড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই আধুনিক এসকেলেটরে ধাপের দুই পাশে হলুদ দাগ দেওয়া থাকে, যা নিরাপদ অবস্থানে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে এসকেলেটর বন্ধ করার জন্য লাল রঙের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামও রাখা হয়। চলন্ত সিঁড়িতে ওঠার সময় সবসময় হলুদ দাগের ভেতরে দাঁড়ান, শিশুদের হাত শক্ত করে ধরে রাখুন এবং ঢিলেঢালা পোশাক বা জুতোর ফিতে যেন ধাপের পাশে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাই পরেরবার এসকেলেটরে উঠে কালো ব্রাশটি দেখলে আর জুতো পরিষ্কার করার কথা ভাববেন না; মনে রাখবেন, এটি আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই বসানো হয়েছে।