২০ বছর পর পরীক্ষাগারে প্রমাণিত কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট তত্ত্ব

প্রকাশিত: 12:01 PM, July 30, 2026

মহাবিশ্বের অদৃশ্য কণাগুলো কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই যুক্ত থাকে, তা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্য। আলবার্ট আইনস্টাইন যাকে ‘দূর থেকে ঘটে যাওয়া ভৌতিক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, সেই কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট তত্ত্বটি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অস্ট্রিয়া (আইএসটিএ) এবং জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখের বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এই তত্ত্বের সফল প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট হলো অতিপারমাণবিক কণাগুলোর মধ্যকার এক অদ্ভুত সংযোগ, যার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির কাজ চলছে। বর্তমান গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আলোর কণার একটি কোয়ান্টাম বাথ ব্যবহার করে পৃথক কিউবিটের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়েছেন। সাধারণ কম্পিউটারের বিট যেখানে ০ অথবা ১ মান ধারণ করে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কিউবিট একই সঙ্গে ০ ও ১ উভয় অবস্থায় থাকতে পারে।

আইএসটিএর পদার্থবিজ্ঞানী আলেজান্দ্রো আন্দ্রেস-জুয়ানেস জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের বাস্তবসম্মত প্রয়োগের পথে থাকা বাধা দূর করা। এই নতুন পদ্ধতিতে কোনো সক্রিয় নিয়ন্ত্রণ বা পরিমাপের প্রয়োজন হয় না, বরং এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। সহকর্মী জোহানেস ফিংক যোগ করেন, এই পদ্ধতিতে এন্ট্যাঙ্গেলড কিউবিটের অবস্থা তাদের নিজস্ব আয়ুষ্কালের পরেও স্থিতিশীল থাকে, যা পরবর্তী কোয়ান্টাম প্রসেসিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা কম শক্তির মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে ৫০ সেন্টিমিটার বা ২০ ইঞ্চি দূরত্বে রাখা দুটি বিচ্ছিন্ন কিউবিটকে যুক্ত করেছেন। গবেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তি যেকোনো দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব। যদিও কোয়ান্টাম জগতে পরিমাপের সময় কিউবিটের মিশ্র অবস্থা ভেঙে কেবল ০ বা ১-এ পরিণত হওয়ার মতো জটিলতা রয়েছে, তবুও এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে বেশি টেকসই। বর্তমানে এই পদ্ধতি কোয়ান্টাম বাথ থেকে উপলব্ধ এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের প্রায় ১০ শতাংশ স্থানান্তর করতে পারে এবং ভবিষ্যতে একে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।