জুলাই বিপ্লবের রাজপথে অকুতোভয় নারী নেতৃত্ব ফাতেমা রহমান বীথি

প্রকাশিত: 2:07 PM, July 30, 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে টাঙ্গাইলের রাজপথে মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফাতেমা রহমান বীথি। বৃষ্টির মতো টিয়ারগ্যাসের ধোঁয়া ও গুলির মুখে নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি অসংখ্য সহযোদ্ধার প্রাণ রক্ষা করেছেন। ২০১৮ সাল থেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকা বীথির এই আন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল একটি বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়নের প্রতিবাদে তিনি রাজপথে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় একজন নারী হিসেবে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া কেবল সাহসের পরীক্ষা ছিল না, বরং তা ছিল সামাজিক বাধা অতিক্রমের অভিজ্ঞতা। ছাত্রলীগের হুমকি-হামলা, পুলিশের ব্যারিকেড ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করতেন, ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ভয়কে জয় করাই জরুরি। নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি মামলার শিকার হয়েছেন, আবার অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সংহতিও পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, সাহস ও দায়িত্ববোধ থাকলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কেউই নেতৃত্ব দিতে পারেন।

১৮ জুলাইয়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বীথি জানান, পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও গুলির মুখে যখন দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি প্রায় ৫০ জন নারী শিক্ষার্থীকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আশ্রয় দেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আহত পুরুষ সহযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন। পরে হাসপাতালে ছাত্রলীগের হামলার খবর পেয়ে তিনি পুনরায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে ছুটে যান এবং আহত সহযোদ্ধাদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মনে করেন বীথি। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নারীদের অবদান আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে তাদের মানসিক হেনস্তা করা হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী যে, অনেক নারী এখনো তাদের লড়াই জারি রেখেছেন। নতুন বাংলাদেশের কাছে তার প্রত্যাশা—আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শুধু আন্দোলনের স্মৃতি রোমন্থন নয়, বরং সেই চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।