জুলাই আন্দোলন রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য ছিল, ক্ষমতার জন্য নয়: শফিকুর রহমান প্রকাশিত: 3:33 PM, July 30, 2026 জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনো একটি দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানো ছিল না। তার ভাষ্যমতে, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ না হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো আপস করেনি। তিনি বলেন, রাতে স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে দিনে আন্দোলনের নামে রাজপথে নামার রাজনীতি জামায়াত করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোটের দাবিতে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে দলটিকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও লোভ দেখানো হয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে নতি স্বীকার করেনি। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার সুযোগ জামায়াতের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত আমির জানান, আন্দোলনের শুরু থেকেই দলটি নৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছিল। যখন অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনকে কেবল শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করছিল, তখন জামায়াত দেশবাসী ও নিজেদের নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলন সফল হওয়ার পরও জামায়াত কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি। আন্দোলনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন দাবি না তুলে শহিদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তাদের সান্ত্বনা দেয়া, হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করার চেষ্টা করেছে দলটি। বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক, বীমা, করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দলীয়করণ চলছে। যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সরিয়ে সেখানে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা দুর্নীতির পরিবেশ তৈরি করছে। শহিদ পরিবারগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এখন যদি সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হয়, তবে শহিদ পরিবারগুলোর কাছে জবাব দেয়ার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি শহিদ পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেই পরিবারের সদস্যরা আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে অন্য অসচ্ছল শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন। বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কারো বাবার বিচার বা মায়ের বিচার হবে আর দেশের নিরীহ জনগণ যারা শহিদ হয়েছে তাদের হত্যাকারীদের বিচার হবে না, তা হবে না। এই বিচার বাংলার মাটিতেই হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তারা প্রতিশোধ নয়, বরং বিচার চান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুল-ত্রুটি মানুষ ও সরকারের হতে পারে, তবে জনগণের সঙ্গে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তিনি সরকারকে রাজনৈতিক কৌশল পরিহার করে সরল পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরিশেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হলেও জামায়াত কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা ও সংসদে শহিদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করা অব্যাহত রাখবে। SHARES রাজনীতি বিষয়: জামায়াতে ইসলামীজুলাই আন্দোলনরাজনীতিরাষ্ট্র সংস্কারশফিকুর রহমান