ইরানের সঙ্গে আজ নতুন আলোচনার ইঙ্গিত দিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশিত: 9:31 AM, August 3, 2026 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আজ সোমবার থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে বিশাল সামরিক হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটি তিনি স্থগিত করেছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা হামলার পরিসর বুঝতে পেরেছিলেন, কারণ তারা এর প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে যাচ্ছি এবং সোমবার বিকেল থেকে আলোচনা শুরু হবে। এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের প্রতিনিধিরা তাকে সপ্তাহান্তে এই সামরিক হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, তারা বিশ্বাস করেন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে এই চুক্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো অনুরোধ করেনি এবং ট্রাম্পের দাবিটি মিথ্যা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা জানান, তেহরান শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকিকে বাস্তব হিসেবে বিবেচনা করে এবং তারা কখনোই অপ্রস্তুত থাকবে না। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পরিকল্পিত হামলাটি হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে ৭ই এপ্রিল ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান শান্তি আলোচনায় রাজি না হলে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এছাড়া যুদ্ধ ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, সেটিও আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান কৌশলবিদদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইরানট্রাম্পপরমাণু চুক্তিমধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্র