এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ তাপমাত্রা বাড়ার সতর্কতা জাতিসংঘের প্রকাশিত: 10:00 AM, August 1, 2026 জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত ‘এল নিনো’র প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, চলমান দাবানল ও চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া বিশ্ববাসীকে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত তীব্রতর হতে থাকা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে আধিপত্য বিস্তার করবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে। বর্তমানে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো এখন আমাদের দোরগোড়ায় নয়, বরং ঘরের ভেতরে ঢুকে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি এটিকে কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোতে ইন্ধন যোগাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করবে। মহাসচিব গুতেরেস জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণকে এই সংকট বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, এল নিনোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাগুলো বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ প্রতিরোধ করে না, বরং মানুষের সিদ্ধান্তই আগামীকালের প্রভাব নির্ধারণ করবে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো চরমে পৌঁছালে এর তীব্রতা রেকর্ড পর্যায়ে যেতে পারে, যদিও কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাস এখনো কিছুটা অনিশ্চিত। শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: এল নিনোজলবায়ু পরিবর্তনজাতিসংঘবিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাবৈশ্বিক উষ্ণায়ন