বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর নতুন মৌসুমে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত: 9:03 AM, August 6, 2026

আগামী ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেডের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাব দুটি এখনো দলবদলের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। নতুন মৌসুমে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য ক্লাব লাইসেন্স নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, যার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রথমে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিলেও তা বাড়িয়ে এখন ৭ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। নতুন মৌসুমের দলবদলের শেষ তারিখ ১৩ আগস্ট।

ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার ঘরোয়া ফুটবলেও তাদের অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়ল। আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু অবশ্য বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। তিনি জানান, তাদের ওপর তিনটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দুটি এরই মধ্যে উঠে গেছে এবং আগামী সপ্তাহে বাকিটিও নিরসন হবে বলে তারা আশা করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নামিবিয়া, ঘানা ও সিরিয়ার তিন ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়। বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ক্লাবটি সংকটের মুখে পড়লে ওই চুক্তি বাতিল হয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদেশি ফুটবলাররা ফিফার কাছে পারিশ্রমিকের অভিযোগ জানান। আবাহনী কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নামিবিয়া ও ঘানার খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং সিরিয়ার খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, বসুন্ধরা কিংসের পরিস্থিতি আরও জটিল। তাদের বিরুদ্ধে ফিফায় ১১টি অভিযোগ থাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। এ বিষয়ে ক্লাবটির কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি হওয়ায় বাফুফেও একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। কিংসের খেলোয়াড়রাও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এবং অনেকে দল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।

গত মৌসুমে ১০টি ক্লাব নিয়ে লিগ আয়োজিত হয়েছিল, যা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন সংখ্যা। বাফুফে তাই অবনমন হওয়া ফকিরেরপুল ও আরামবাগ ক্লাবকে নতুন মৌসুমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ফকিরেরপুলের বিরুদ্ধেও দুটি ফিফা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা সমাধানের চেষ্টা করছে ক্লাবটি। ক্লাবটির সূত্রমতে, দুই বছর আগে দেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের কারণে বিদেশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাফুফে এখন বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ফকিরেরপুল, আরামবাগ ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে। যদি কিংস ও আবাহনী শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে না পারে, তবে ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেবে।