ভারতে হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত: 9:35 AM, August 6, 2026

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে দিল্লির সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং এ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ধরনের আয়োজনের ফলে যে ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এটি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার দেওয়া এই বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক চরম অবমাননা। এটি জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতিও গুরুতর অসম্মান প্রদর্শন। একই সঙ্গে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরীহ মানুষ ও শিশু হত্যার মতো জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্যগুলোকে অস্বীকার করার এই চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে আর কখনো ফিরে না যাওয়ার এবং দেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায় আর কোনো স্থান নেই। বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকারচর্চা না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ জানালেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এর বিপরীতে তাকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে এবং দুই প্রতিবেশী দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।