জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব খর্ব করতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ

প্রকাশিত: 10:56 AM, August 7, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি ধারাকে পুনরায় চ্যালেঞ্জ করে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ বন্ধ করা। এই প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা মূলত সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করে থাকেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে।

ডোনাল্ড জে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেন। ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্ম নেওয়া ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার আগে একজন সফল ধনকুবের ব্যবসায়ী এবং শোবিজ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদন জগতে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন হঠাৎ করেই তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, যা শুরুতে অনেকেই গুরুত্ব দেননি। তবে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন।

ট্রাম্পের পিতা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী এবং মা মেরি ট্রাম্প স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ ট্রাম্পের চঞ্চল স্বভাবের কারণে ছোটবেলায় তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমি স্কুলে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে বাবার ব্যবসায় যোগ দেন তিনি। অত্যন্ত সাধারণ পদে কাজ শুরু করে কালক্রমে তিনি হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনো ব্যবসার এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় মিস ইউনিভার্সের স্পনসর এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ টিভি রিয়্যালিটি শো-এর উপস্থাপক হিসেবে তিনি বিপুল পরিচিতি পান।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিয়ে করা ট্রাম্প পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানা, দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলস এবং বর্তমান ফার্স্ট লেডি হলেন মডেল মেলানিয়া। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নির্বাহী আদেশ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা অন্যতম। তাঁর অভিবাসী ও জলবায়ু নীতি তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে এবং নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্তও চলছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ট্রাম্প ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন। এই সংক্রান্ত বিষয়ে ২০২৬ সালের ২ জুলাই (2026-07-02) সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় (ruling) রয়েছে, যা নথি নম্বর wb703obh এবং 703 (2026) হিসেবে চিহ্নিত।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট (2026-08-07) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে (untitled- / yjw4vxa5 / untitled / 2026) এই অভিবাসন নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

prothomalo-bangla/2025-12-06/iipf43gn/US-Supreme-Court.jpg

prothomalo-bangla/2025-01-21/tspjic3w/Birthright.JPG