যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করছে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান

প্রকাশিত: 1:00 PM, August 7, 2026

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শুক্রবার জেদ্দায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে যাচ্ছে। সৌদি সামরিক বাহিনী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নৌপরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক শক্তিগুলো পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে উদ্যোগী হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুক্রবার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লোহিত সাগর তীরের শহর জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্সির দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের শুক্রবার সৌদি আরবে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের এই সফর ৬ আগস্ট শুরু হয়েছে এবং ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সফর হচ্ছে। তবে এর গুরুত্ব কেবল তাৎক্ষণিক সংকট বা স্বল্পমেয়াদি বিবেচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর কৌশলগত তাৎপর্য আরও ব্যাপক।

গত কয়েক মাস ধরেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি কৌশলগত জোট গঠনের আলোচনা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তুরস্ক গাজায় যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করেছিল। মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে ওই চুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।