ইরানে ক্ষমতার লড়াই: মোজতবার বিরুদ্ধে কট্টরপন্থীদের অভ্যুত্থানের অভিযোগ

প্রকাশিত: 10:04 PM, July 18, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা ও ক্ষমতার লড়াই প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে মধ্যপন্থী রক্ষণশীল অংশ, অন্যদিকে জেবহে-ই পায়দারি ও সাঈদ জলিলির অনুসারী উগ্র-বিপ্লবী গোষ্ঠী একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তেহরানের রাজনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের এই ফাটল এখন রাজপথের নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর জানাজায় এই দ্বন্দ্বের তীব্র বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শোকের আবহে কট্টরপন্থীরা বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে আপসকারী হিসেবে স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার রূপকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে পাথর ছুড়ে মারলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শাহার-ই রে এলাকায় সরকার-ঘনিষ্ঠ সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ আলী বখশির সরাসরি হুমকির কারণে। তিনি প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সর্বোচ্চ নেতার শর্ত পূরণ না হলে ব্লেড ও গলার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে এ ধরনের প্রকাশ্য হত্যার হুমকির পরও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং প্রয়াত নেতার ছেলে মোজতাবা খামেনেইর রেড লাইন লঙ্ঘন করেছে। সংসদ সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে একটি আসন্ন অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থীদের অভিযোগ, মোজতবার আড়ালে থাকা বা অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে পেজেশকিয়ান ও গালিবাফ পার্লামেন্ট ও কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন।

এই অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মাহমুদ নাবাবিয়ানকে জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং হামিদ রাসায়িকে সাময়িকভাবে আটকের খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৬০ জন সংসদ সদস্যের অবস্থান ধর্মঘটের পরিকল্পনাও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর চাপে ব্যর্থ হয়েছে। গালিবাফপন্থীরা এই কট্টরপন্থীদের কর্মকাণ্ডকে অবাস্তব ফ্যান্টাসি ও সরকার পতনের ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করেছেন।

ইরানের ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে এই উগ্রপন্থীদের সংখ্যা সীমিত হলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, পার্লামেন্ট ও বিচার বিভাগে তাদের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধসংকটে থাকা সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মধ্যে কট্টরপন্থীদের এই উসকানি ও রাজপথে বদলার স্লোগান দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কট্টরপন্থী নেতা মানুচেহর মোত্তাকি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে সেনাসদস্যদের জিম্মি করার আহ্বান জানিয়ে এই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।