কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার তৎপরতা প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬ কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে চোকো প্রদেশে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনটি পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। তবে স্থানীয় মেয়র লিওন ফাবিও মারিন মনকাদা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যদিও যাতায়াতের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং মহানগর এলাকায় ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া পেরেইরা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ক্যালি শহরেও অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। পেরেইরা শহরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত সেখানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভূমিকম্পের সময় মানিজালেস শহরেও অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কুইবদো, মেডেলিন এবং ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী বোগোতায় গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল কেঁপে উঠলেও কোনো বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। সরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ক্ষমতা ও বাজেট পুনর্বিন্যাসের সুযোগ পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে উদ্ধারকাজে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটি গভীর হওয়ায় আফটারশকের সংখ্যা কম হতে পারে, তবে শক্তিশালী আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর আগে দুই মাসেরও কম সময় আগে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে দুটি ভূমিকম্পে ৬৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ক্যালি শহরে কমপক্ষে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। শহরটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। লন্ডনের ২৯ বছর বয়সী পর্যটক ড্যান কাটলার তখন ক্যালিতে ছিলেন। ভূমিকম্পে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বলেন, এমন অভিজ্ঞতা তিনি আগে কখনো পাননি। তিনি জানান, তারা পাজামা পরেই দ্রুত হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। হোটেলের বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি না হলেও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রং ও প্লাস্টারের অংশ খসে পড়েছে। মানিজালেসে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় একটি হোটেলে থাকা অ্যানজেলিকা আভিলা জানান, দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চিৎকার শুরু করেন। তিনি বলেন, পাশের ভবনগুলো থেকে ধুলা বেরিয়ে আসছিল এবং দেয়াল থেকে ইট খসে পড়ছিল। মানিজালেসের সাংবাদিক ও আবহাওয়াবিদ লুইস ফেলিপে মোলিনা ভূমিকম্পের সময় বাড়িতে ছিলেন। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা শহরটির ভবনগুলো অতীতের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে কঠোর ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণবিধির আওতায় তৈরি। তার নিজের ভবন বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে পারলেও ঘরের ৪৫০টি বইয়ের মধ্যে মাত্র কয়েকটি তাকের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি জানান, চারদিকে কাচ ভাঙার শব্দ ও মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মানিজালেস ছাড়াও কুইবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: আন্তর্জাতিক সংবাদকলম্বিয়াপ্রাকৃতিক-দুর্যোগভূমিকম্পভূমিকম্পে মৃত্যু