মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

পবিত্র নগরী মক্কার কাছে হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার চেষ্টার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং ইসলামাবাদ সেই শর্তগুলো মেনে চলতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সামরিক কৌশল বা এই চুক্তির বিস্তারিত কোনো বিষয় জনসমক্ষে আলোচনা করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য পাকিস্তানের কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন নেই। এই চুক্তি না থাকলেও পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করা পাকিস্তানের একটি পরম কর্তব্য। যদি মক্কা আক্রান্ত হয়, তবে তা রক্ষায় পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন থেকে কোনোভাবেই পিছিয়ে যাবে না।

এর আগে ইয়েমেনবিষয়ক সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, গত মঙ্গলবার ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি হুথি ড্রোন মক্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশে শনাক্ত করা হয়। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর এই সৌদি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুথিরা। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এই দাবিকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো এবং মক্কায় হামলার এই মিথ্যা দাবি এখন আর কাউকে ভুল বোঝাতে পারবে না।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মক্কার কাছে এই হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংলাপ ও কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তান হুথি হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগের বার্তাটি ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানান খাজা আসিফ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রিয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তেহরানকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়। কারণ ইরান ইতিমধ্যে চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, ফলে নতুন কোনো সরাসরি সংঘাত তেহরানের জন্যও পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত হচ্ছে, যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি দুই সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর আগে খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসন হলে চুক্তিটি কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।