সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ মোট ২০ জন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক নতুন এ তারিখ ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ মামলাটি আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে প্রতারণা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন।

মামলার এজাহারে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ২০১৭ সালে ব্যাংকের পরিচালক ও পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ব্যাংকটির পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন দায়মুক্তির সাংবিধানিক সুরক্ষা থাকলেও, এই অভিযোগটি তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের সময়ের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আনা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিনসহ আরও অনেকে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৮ লাখ টাকা হওয়া সত্ত্বেও ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেনা তাদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ ২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে অধিগ্রহণের পেছনে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার কিনেছিল। ব্যাংকের মোট শেয়ারের হিসাবে এর পরিমাণ ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ছিল ২৫১ কোটি টাকা।