মরিচ্চাপ নদীর ভাঙনে আশাশুনিতে দিশেহারা মানুষ, বিলীন বসতবাড়ি

প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আশাশুনি উপজেলা সদর। এই এলাকার মরিচ্চাপ নদীর পাড় এখন ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। চাপড়া সেতুর দুই পাশেই ভাঙনের চিত্র স্পষ্ট—কোথাও বসতঘরের অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে, কোথাও দেয়ালে ফাটল ধরেছে, আবার কোথাও মাটি ধসে গেছে। নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

মিনারা বেগম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত ১০ বছরে তাদের বাড়ি থেকে নদীর দূরত্ব অনেক কমে এসেছে। প্রায় দুই বছর আগে নদী খননের সময় তোলা মাটি ও বালু বাড়ির পাশে রাখা হয়েছিল, কিন্তু জোয়ারের টানে তা ধুয়ে যাওয়ায় গত এক বছরে তার বাড়ির তিনটি ঘর নদীতে চলে গেছে। মিনারা বলেন, 'চোখের সামনে বাড়িডা নদীতে যাচ্ছে, আমাগের কিছুই করার নেই।'

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম সরদারের অভিযোগ, দুই বছর আগে নদী খননের সময় চর কেটে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করায় স্রোত সরাসরি আশাশুনি বাজারের দিকে আঘাত করছে। এর ফলে বাজার ও এর আশপাশের বসতবাড়িগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে চায়ের দোকান চালানো মোহাম্মদ আবদুল হাই জানান, খননের সময় পাড়ের গোড়ার মাটি তোলায় জোয়ারের পানিতে পাড় আরও দ্রুত ভাঙছে। তিনি বলেন, 'দুই বছর ধরে শুনতেছি বস্তা দেবে, পাড় রক্ষার কাজ হবে। কিন্তু তেমন কাজ হয়নি। এখন ঘরে ফাটল ধরিছে।'

মানিকখালী এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, তাদের চলাচলের পথটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা চললেও এলাকাবাসীর মতে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত।

এই সংকট নিরসনে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার গত বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, বরাদ্দ কম হওয়ায় কাজের গতি সীমিত। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল আলিম জানান, বর্তমানে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় জরুরিভিত্তিতে জিও ব্যাগ প্লেসিংয়ের কাজ চলছে, তবে পুরো সমস্যার সমাধানের জন্য প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় কাজের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।