মাতৃত্বের কষ্ট ও ত্যাগের সওয়াব ইসলামে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬ একজন নারী যখন মা হওয়ার পথে পা রাখেন, তখনই তিনি মাতৃত্বের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে পারেন। মাতৃত্ব কেবল একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনা নয়, বরং এটি শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক এক গভীর রূপান্তরের অসাধারণ যাত্রা। মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও শিক্ষা মায়েদের কষ্টকে পবিত্র ইবাদতে রূপান্তরিত করার প্রেরণা যোগায়। মাতৃত্বের যাত্রায় একজন মাকে শারীরিক ক্লান্তি, প্রসবোত্তর মানসিক চাপ, রাত জেগে শিশুর সেবা এবং সন্তানের মঙ্গলের জন্য অবিরাম প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই সময়ে মায়েরা প্রায়ই নিঃসঙ্গতা ও দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হন, যেখানে ইসলামের শিক্ষা তাদের জন্য এক অমূল্য আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। পবিত্র কোরআনে মায়েদের ত্যাগ ও কষ্টের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। সুরা লুকমানের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে। সুতরাং আমার এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।' একইভাবে সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতে মায়ের কষ্টের সঙ্গে গর্ভধারণ ও প্রসবের বিষয়টি উল্লেখ করে তার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামে মায়ের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, তার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার? উত্তরে তিনি তিনবার 'তোমার মা' বলে চতুর্থবার 'তোমার বাবা'র কথা উল্লেখ করেছেন (বোখারি: ৫৯৭১)। এছাড়া 'জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে'—এই বিখ্যাত হাদিসটি মায়ের সম্মানের অনন্য প্রতীক (নাসায়ি: ৩১০৪)। মুআবিয়া ইবনে জাহিমা (রা.)-কে নবীজি (সা.) জিহাদে যাওয়ার পরিবর্তে মায়ের সেবা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ জান্নাত তার পায়ের নিচেই রয়েছে (ইবনে মাজাহ: ২৭৮১)। নবীজি (সা.) আরও ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া, মহামারিতে মৃত্যু এবং প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করা শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করার সমান (মুসনাদে আহমদ: ২৩৮৬৫)। সপ্তম শতাব্দীর আরব সমাজে, যেখানে নারীদের প্রতি অবমাননা ছিল সাধারণ, নবীজি (সা.)-এর এই শিক্ষাগুলো ছিল এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে বয়স্ক মায়েরা প্রায়ই একাকিত্বে ভোগেন, যা একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা আমাদের উৎসাহিত করে মায়েদের প্রতি যত্নশীল হতে এবং তাদের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল থাকতে। মাতৃত্ব কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর কাছে পবিত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। SHARES অন্যান্য বিষয়: ইবাদতইসলামকোরআনমাতৃত্বমায়ের মর্যাদা