সাভারের এসআই নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তে পিবিআই

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন মোসা. সুরাইয়া বেগম নামে এক নারী। গতকাল রবিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এই মামলার আবেদন করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

বাদীর আইনজীবী হরে কৃষ্ণ জানান, ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমান বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন এবং অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার রিকশার গ্যারেজে গত ২২ মে আসামিরা হামলা চালিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গ্যারেজ ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল লুট করা হয়। পরবর্তীতে শামীম রেজাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শামীম ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলা থেকে রক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহ দফায় দফায় টাকা আদায় করেন। শামীমের পরিবার দুই দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা দেয় এবং ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দিয়ে দুটি আইফোন কিনে দেয়। পরবর্তীতে ১৪ জুন দোকান থেকে ফোন পরিবর্তন করে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স নিজের নামে করে নেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া শামীমের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন, একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে শামীমের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে আরও ৭৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি পুনরায় শামীমের বাড়িতে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সম্প্রতি এসআই নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে।