তদন্তের দায়িত্ব বাহিনীর হাতে থাকলে ন্যায়বিচার অসম্ভব: তাজুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৬

কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতেই অর্পণ করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইন (খসড়া): প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ ও ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।

তাজুল ইসলাম বলেন, অপরাধীই যদি তদন্তকারী হয়, তবে ন্যায়বিচার কীভাবে সম্ভব? তিনি আইনি নীতি ‘নো ম্যান শ্যাল বি আ জাজ ইন হিজ ওন কজ’ (অর্থাৎ কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারেন না) স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে রাখা হয়েছে। এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে। এর ফলে ভুক্তভোগী এবং বাহিনীর কর্মকর্তা উভয় পক্ষই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরির ইতিহাস তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, আইনটি তৈরির সময় গুম কমিশন, ভুক্তভোগী পরিবার ও নাগরিক সমাজের মতামত নেওয়া হয়েছিল। ১৭ থেকে ১৮টি অধিবেশনে পর্যালোচনার মাধ্যমে আইনটি তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও পরে তা ‘ল্যাপস’ করিয়ে নতুন আইনে তদন্তের দায়িত্ব পুনরায় বাহিনীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনে কারাদণ্ডের ঝুঁকি রাখা হয়েছে, যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত করবে। তাজুল ইসলাম ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো গুম ও জুলাই-আগস্টের সহিংসতার বিচারে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে আয়নাঘর ও গুমের বিভিন্ন ঘটনায় আদালতে সাক্ষীরা বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনগুলো সংসদে পাস না করে পুনর্বিবেচনার জন্য। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের তরুণদের আত্মত্যাগের পর এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যা গুমের সংস্কৃতি ও ভয়কে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে।