কোমর থেকে পায়ে ব্যথা: লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে সতর্কবার্তা প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬ কোমর থেকে নিতম্ব ও ঊরু হয়ে পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া কেবল সাধারণ কোমরব্যথা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে মেরুদণ্ডের ডিস্ক, স্নায়ু বা পেশির জটিল সমস্যা জড়িত থাকতে পারে। কোমরের নিচের অংশ থেকে পায়ের দিকে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু প্রবাহিত হয়, যা কোনো কারণে চাপ বা জ্বালাময় পরিস্থিতির শিকার হলে ব্যথা নিতম্ব ও পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ব্যথার ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী সঠিক কারণ চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। কোমর থেকে এক পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যথাকে অনেক সময় সায়াটিকা বলা হয়। সায়াটিকার ক্ষেত্রে পায়ে অবশভাব, ঝিনঝিন করা, দুর্বলতা বা জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে কোমর থেকে পায়ে ব্যথা হলেই সেটি সায়াটিকা—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এই ধরনের সমস্যায় সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা যায়। যেমন, কাশি বা হাঁচির সময় ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যাওয়া। ব্যথার ধরন অনুযায়ী একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। আকস্মিক বা তীব্র ব্যথা হতে পারে ভারী বস্তু তোলা, পড়ে যাওয়া বা পেশিতে টান লাগার কারণে। উপতীব্র ব্যথা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এবং সময়ের সাথে কমতে বা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বারবার ফিরে এসে দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোমরব্যথাকে তীব্র, উপতীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী—এই সময়কালভিত্তিক শ্রেণিতে বিবেচনা করে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় শারীরিক চাপ, ধূমপান এবং অতিরিক্ত বিএমআই (BMI) কোমরব্যথাজনিত অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়ায়। কোমরব্যথা সব বয়সেই হতে পারে, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ৫০-৫৫ বছর বয়সে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ব্যথাজনিত অক্ষমতার প্রভাবও বেশি হতে পারে। SHARES ফিচার বিষয়: কোমর ব্যথাব্যথামেরুদণ্ডের সমস্যাসায়াটিকাস্বাস্থ্য সচেতনতা