ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করল বিসিবি

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

প্রকাশকাল: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ২৯ (03-09-2026, 22:29)

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মিরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে ক্রিকেটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল বোর্ড। নতুন এই ফি কাঠামোর ফলে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে, যার ফলে একজন ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই বছরে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

বিসিবি এর আগেই জানিয়েছিল যে, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এবার জোড়াতালির বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) আয়োজন করা হবে না। তবে বিপিএল না থাকার কারণে ক্রিকেটারদের আয়ের ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সঙ্গে বসেছিল বোর্ড। সেই বৈঠকের পরই ম্যাচ ফি বাড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের দাবি জানিয়েছেন বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল। তিনি ক্রিকেটারদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে যে চাওয়া—এটা এখন ওদেরও (ক্রিকেটারদের) পূরণ করতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব নিয়ে অনেক ধরনের আলোচনা হয়। এতে কোনো ছাড় নেই। যখন কেউ ফিটনেস টেস্ট পাস না করে, এটা-ওটা নিয়ে অনুরোধ করে—এগুলো কিছু শোনা হবে না।’ ফিটনেস পরীক্ষায় পাস না করে কোনো ধরনের অনুরোধ করার দিন শেষ বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে গত মে মাসে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন তামিম। মাত্র sechs মাসের ব্যবধানে তা আরও একবার বাড়ানো হলো। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে (এনসিএল ও বিসিএল) ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া একদিনের সংস্করণে (লিস্ট এ) ম্যাচ ফি ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

পুরুষদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদেরও সুযোগ-সুবিধা ও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে টেস্টের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তিনদিনের পরিবর্তে চারদিনের ম্যাচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। নারীদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বিপিএল না হওয়ার শূন্যতা পূরণ এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিকে আরও আকর্ষণীয় ও জমজমাট করতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নামে নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালুর পরিকল্পনা করছে বিসিবি। বিভাগীয় দলের পরিবর্তে sechsটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দল নিয়ে এই টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হবে। এই দলগুলোর নামকরণের স্বত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হাতে। বিসিবি সভাপতি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা আরও বাড়লে দুই বছর পর এই ম্যাচ ফি আবারও পর্যালোচনা বা বৃদ্ধি করা হতে পারে।