শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ সহজ করছে বিএসইসি প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ দেশের পুঁজিবাজারে মানসম্মত ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ভারতের শেয়ারবাজারের মতো বড় কোম্পানিগুলোকে নিয়মিতভাবে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এ ধরনের বিকল্প পথ থাকা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে, আবার উদ্যোক্তা বা বিদ্যমান শেয়ারধারীরাও তাঁদের শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করতে পারেন। ফলে কোম্পানি ও উদ্যোক্তা—উভয়েরই উপকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিএসইসির তৈরি করা নতুন বিধিমালার খসড়ায় সাত ধরনের কোম্পানির জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের সম্পূর্ণ বা আংশিক মালিকানাধীন কোম্পানি এবং বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বড় ও ভালো দেশীয় কোম্পানিগুলোও এই প্রক্রিয়ায় বাজারে আসার সুযোগ পাবে। নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসার পথ সুগম হবে। শান্তা ইকুইটির সিইও রুবাইয়াত ই ফেরদৌস জানান, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ভালো কোম্পানি বাজারে আসতে চায় না। আবার অনেক কোম্পানি আছে, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে নতুন মূলধনের দরকার হয় না বা ব্যবসা সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনাও নেই। ফলে শুধু মূলধন সংগ্রহের জন্য তাদের আইপিওতে আসার দরকার হয় না। সরাসরি তালিকাভুক্তি এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তুলনামূলক কম সময়ে, এমনকি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেও তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব। সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাঁদের শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করতে পারবেন এবং সেই বিক্রয়মূল্য তাঁদের হিসাবেই যাবে। অন্যদিকে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রযোজ্য কর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। খসড়া বিধিমালায় বিএসইসিকে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় দেওয়ার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেটিও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। বর্তমানে এই খসড়া বিধিমালার ওপর শেয়ারবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়েছে। বিএসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকসহ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে, যেখানে মতামতগুলো তুলে ধরা হবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়াটি কার্যকর ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হলে ভালো কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার পথ সহজ হবে, যা বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগযোগ্যতার পরিধি বাড়াবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: তালিকাভুক্তিপুঁজিবাজারপুঁজিবাজার বিশ্লেষণবিএসইসিশেয়ারবাজার