ইসলামে সুন্দর আচরণ ও উত্তম চরিত্রই বড় নেক আমল প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ইসলাম ধর্মের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে মহান আল্লাহর খাঁটি বান্দা হিসেবে গড়ে তোলা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠন এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে ঈমানকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানবজাতির এই নৈতিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্যই আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় নবীকে প্রেরণ করেছেন। অনেকেই মনে করেন, ভদ্রতা, শালীনতা বা উত্তম চরিত্র মানুষের সহজাত বিষয় এবং এটি সবার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। চেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে মানুষের স্বভাব-চরিত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শিখতে শিখতেই ইলম হাসিল করা সম্ভব। আর সাধ্য সাধনার পরাকাষ্ঠার মাধ্যমেই ধৈর্য ও কষ্ট স্বীকার আয়ত্ত করা সম্ভব। যে ব্যক্তি কষ্ট সাধন করে কল্যাণ অর্জনে ব্রতী হয়, সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি অকল্যাণ থেকে বাঁচার জন্য সচেষ্ট থাকে, সে অমঙ্গল থেকে বেঁচে যায়।’ উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণ অর্জনের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি নিজে দোয়া করতেন, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে ধাবিত করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ সেদিকে ধাবিত করার নেই। আর আমাকে অসৎ চরিত্র ও আচরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। আপনি ছাড়া তা থেকে দূরে সরানোর আর কেউ নেই।’ এই দোয়া করার নির্দেশনা প্রমাণ করে যে, নিজের চরিত্র ও আচরণকে ক্রমাগত উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। ইসলামে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মহান আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে প্রিয় নবীকে সর্বোত্তম আচরণ শিক্ষা দিয়েছেন এবং নবীজি সেই আচরণের আলোকেই পথহারা মানুষকে অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছেন। তবে বর্তমানে অনেকে নামাজ-রোজার মতো ইবাদতকে গুরুত্ব দিলেও, উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহারকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হিসেবে অবহেলা করেন। নফল ইবাদতের চেষ্টা থাকলেও নিজের ভেতরের অশালীনতা ও दुर्ব্যবহার দূর করার প্রচেষ্টা অনেকের মাঝেই কম দেখা যায়। একজন মানুষের আসল পরিচয় ও তার উন্নত ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তার সুন্দর ব্যবহার ও ভালো কথার মাধ্যমে। সুন্দর আচরণকারী ব্যক্তি সমাজে সবার ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা লাভ করে। মহান আল্লাহও এমন মানুষকে পছন্দ করেন। একটি ভালো কথা ও সুন্দর ব্যবহারকে একটি ভালো গাছের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যার প্রশংসা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং যার জন্য আসমান ও জমিনের ফেরেশতারাও দোয়া করেন। বিপরীতে, খারাপ ব্যবহার সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং মানুষের মাঝে ঘৃণা ও অবজ্ঞার জন্ম দেয়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন সদা-সত্যভাষী, হিতভাষী, শুদ্ধভাষী ও সুভাষী। তিনি সবার সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করতেন বলেই ছিলেন সৃষ্টির সেরা মানব। তবে সুন্দর আচরণে কৃত্রিমতা থাকা উচিত নয়। কেবল মুখে মুচকি হেসে কথা বলা কিন্তু মনে বিদ্বেষ পোষণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না; এতে ইখলাস বা আন্তরিকতা থাকে না। বিশ্বের বুকে মুসলমানদের আবার শ্রেষ্ঠত্ব ও হৃত গৌরব ফিরে পেতে হলে ধনী-দরিদ্র, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করার এই শিল্পকে নিজেদের জীবনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। আরও পড়ুন প্রিয় নবীজি (সা.)-এর অনন্য ১০ বৈশিষ্ট্য মানুষের এসব লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে আমাদের মাঝে আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় নবীকে প্রেরণ করেছেন। SHARES ইসলাম বিষয়: ইসলামউত্তম চরিত্রনেক আমলসুন্দর আচরণহাদিস