ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব বিষয় বর্জনীয়

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

মানব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ইসলামে এর জন্য স্বতন্ত্র নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের অধিকার রক্ষা এবং ইনসাফপূর্ণ বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করে। ইসলামপ্রদত্ত এই নীতিমালা অনুসরণ করা সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর, কারণ এটি যাবতীয় অকল্যাণ থেকে ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে নীতি-নৈতিকতা রক্ষা করা অপরিহার্য। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত না হলে উপার্জিত সম্পদে হারাম ও বাতিল মালের অনুপ্রবেশের ঝুঁকি থাকে। রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, 'সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যাকে তৃপ্ত করা হয়েছে হারাম দ্বারা' (মুসনাদে আবি ইয়ালা: ৭৮)।

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পণ্য বৈধ হওয়া আবশ্যক। শরিয়তের দৃষ্টিতে মদ বা শুয়োরের মতো হারাম বস্তু কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং নৈতিকতা বহির্ভূত। এছাড়া, পণ্যের লেনদেনে দালালি বা কৃত্রিমভাবে দরদাম বাড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'এক মুসলমান যেন অপর মুসলমানের ওপর গিয়ে পণ্যের দাম না বলে এবং বিয়ের আলোচনা চলা অবস্থায় প্রস্তাব না দেয়' (বোখারি: ২১৪০)। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং তৃতীয় পক্ষ অন্যায়ভাবে লাভবান হয়।

সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকেও ব্যবসায়ীদের দূরে থাকা প্রয়োজন। যেমন—এমন কারো কাছে বৈধ পণ্য বিক্রি করা, যার অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। হাদিস শরিফে এ জাতীয় সন্দেহজনক লেনদেন থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে (বোখারি: ১৪৮২)।

বিশেষ করে সুদ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। সুদ একটি সুস্পষ্ট হারাম কাজ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আল্লাহ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। সুদি কারবার ব্যবসায় বরকত নষ্ট করে। এছাড়া, সুদের সঙ্গে জড়িত গ্রহীতা, দাতা, সাক্ষী এবং হিসাব রক্ষক—সবাইকে নবীজি (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন (তিরমিজি: ১২০৬)। দৈনন্দিন জীবনে অজান্তে ঘটে যাওয়া সুদি কারবারের মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু প্রতিপালন পদ্ধতি, জমি বন্ধক রাখা এবং ইসলামি শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ গ্রহণ। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন' (সুরা বাকারা: ২৭৬)।

১. গবাদিপশু প্রতিপালনের জন্য বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

২. জমি বন্ধক দেওয়ার বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।