জুমার খুতবার সময় মোবাইল ব্যবহার: কী বলছে ইসলাম?

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

জুমার খুতবা চলাকালীন সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে পাশের মুসল্লির সঙ্গে কথা বলা নিষেধ, যা অনেকেরই জানা। কিন্তু খুতবার সময় মোবাইল ফোন দেখা, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক চালানো কিংবা অকারণে মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখার বিধান কী, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। ইসলামি শরিয়তে জুমার খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীরব থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এমনকি অন্য কাউকে 'চুপ থাকো' বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইমাম যখন জুমার খুতবা দেন, তখন কেউ তার পাশের ব্যক্তিকে 'চুপ থাকো' বললেও সে অনর্থক কাজে জড়িয়ে পড়ল। এই হাদিসটি সহিহ বুখারির ৯৩৪ নম্বর এবং সহিহ মুসলিমের ৮৫১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ, অন্যকে থামানোর ভালো উদ্দেশ্যে কথা বললেও তা খুতবার আদব নষ্ট করে, তাই নিজে নীরব থেকে খুতবা শোনা জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মোবাইল ফোন ছিল না, তাই এ বিষয়ে সরাসরি কোনো হাদিস নেই। তবে সমসাময়িক আলেম ও ইফতা প্রতিষ্ঠানগুলো খুতবার সময় মনোযোগ নষ্টকারী কাজের ওপর ভিত্তি করে এর বিধান ব্যাখ্যা করেছে। জর্ডানের সরকারি জেনারেল ইফতা বিভাগ এ বিষয়ে একটি ফতোয়া দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, খুতবার সময় মুসল্লির উচিত সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খতিবের কথা শোনা এবং কোনো কাজে ব্যস্ত না হওয়া। হাদিসে যেমন পাথরের কঙ্কর নাড়াচাড়াকে অনর্থক কাজ বলা হয়েছে, তেমনি হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকের মতো অ্যাপ ব্যবহারে ব্যস্ত হওয়া খুতবা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়, যা আরও বেশি অনর্থক। আল-কোরআনের সুরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে জুমার আজান হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কেনাবেচা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

হাদিস ও আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে, খুতবা চলাকালীন বার্তা পাঠানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, ছবি তোলা বা অকারণে স্ক্রল করা থেকে বিরত থেকে খুতবা শোনাই উচিত। তবে মনে রাখা জরুরি, মোবাইল দেখলেই জুমার নামাজ 'বাতিল' হয়ে যায় এমন কথা সহিহ হাদিসে বলা হয়নি। মূল সতর্কতা হলো, খুতবার সময় অনর্থক কাজে জড়িয়ে এর আদব ও পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত না হওয়া। তাই মসজিদে প্রবেশের আগেই ফোনটি নীরব করে রাখা এবং খুতবা শুরু হলে তা পাশে রেখে মনোযোগ দিয়ে শোনা সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম অভ্যাস।