এশিয়ান গেমসের পর নিগারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত বিসিবির

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

আসন্ন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নিশ্চিতভাবেই নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে মাঠে নামবে। তবে এই টুর্নামেন্টের পর তার হাতেই দলের নেতৃত্ব থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। সাম্প্রতিক সময়ে দলের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্ব সংক্রান্ত নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছে। আপাতত এশিয়ান গেমস সামনে রেখে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন না আনলেও টুর্নামেন্ট শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু।

সম্প্রতি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নারী দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পেলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দলটিকে বেশ ভুগতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় নিগার সুলতানার দলকে। এই ব্যর্থতার পর থেকেই অধিনায়কের নেতৃত্ব নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন এবং পরিবর্তন দাবি করেছেন।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, বিষয়গুলো বোর্ড পর্যবেক্ষণ করছে। যেহেতু এশিয়ান গেমসের জন্য দল ও অধিনায়ক প্রায় দেড়-দুই মাস আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, তাই এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, 'আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করছি। সদ্য এশিয়া কাপ শেষ হলো, ওরা সেখান থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবে। এই মুহূর্তে আমি এমন কথা বলতে চাচ্ছি না। যেহেতু টিম অলরেডি সিলেক্টেড, ক্যাপ্টেন সিলেক্টেড এবং অনেক আগেই নাম পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই টিমই খেলতে যাবে। আমরা আশা করছি, ওখানে তারা ভালো খেলবে, যে ভুলগুলো করেছে সেগুলো শুধরে দেশের সুনাম অর্জন করবে।'

অধিনায়কের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এবং মাঠের আচরণের বিষয়েও বোর্ড অবগত বলে জানিয়েছেন বাবু। বিশেষ করে ভারতীয় অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করার বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও বোর্ড এমন আচরণ সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাবু বলেন, 'এটা তার নিজের সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি, খেলাধুলার মাধ্যমে সারা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হয়। এটা ভারত বলে নয়, সবার সঙ্গেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত।'

এছাড়া নারী দলের কোচিং প্যানেলের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তবে এশিয়ান গেমসের ফলাফলের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বাবু বলেন, 'যেহেতু অলরেডি টিম এনাউন্স করা হয়েছে, তারা এশিয়ান গেমসে কেমন খেলে সেটা দেখি। আমরা আশা করছি ভালো খেলবে। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব আসলে কী করা যায়। এরপর আমাদের অস্ট্রেলিয়া ট্যুর আছে, নিউজিল্যান্ড ট্যুর আছে, অনেক কিছু করার আছে আমাদের।'

নারী দলের সুরক্ষার বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখার কথা জানিয়ে বিসিবির নারী উইং প্রধান বলেন, কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তি যে-ই হোক, কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এশিয়ান গেমসে দলের সামগ্রিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ওপরই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাই এশিয়ান গেমস কেবল পদক জয়ের লড়াই নয়, বরং নিগার সুলতানার অধিনায়কত্বের ভবিষ্যতের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবে বাংলাদেশ নারী দল।