ইংল্যান্ডে ভরাডুবি, পাকিস্তান ক্রিকেটের দৈন্যদশা নিয়ে ক্ষুব্ধ আকরাম-আফ্রিদি

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের দুর্দশা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, মাঝপথে কোচ ও খেলোয়াড়দের ছাঁটাই এবং সামগ্রিক অস্থিরতার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) কাঠগড়ায় তুলেছেন দেশটির সাবেক দুই অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আফ্রিদি। গত ৫০ বছরে ইংল্যান্ড সফর করা পাকিস্তান দলের মধ্যে এটিকে অন্যতম দুর্বল দল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সিরিজ চলাকালীনই প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করা হয়। একই সাথে স্কোয়াড থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা ছিল প্রকট; ছয় ইনিংসের পাঁচটিতেই দল ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে ব্যর্থ হয়। শেষ টেস্টের আগে মাইক হেসনকে সাদা বলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দলের পারফরম্যান্সে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। এছাড়া মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তারা জাতীয় সাইবার অপরাধ সংস্থার তদন্তের মুখে পড়েছেন, যা দলের অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম এএফপিকে বলেন, এই পতন তার কাছে মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরেই এমনটা হওয়ার আশঙ্কা ছিল এবং এর পেছনে কোনো একজন ব্যক্তি নয়, বরং অনেকগুলো কারণ রয়েছে। শহীদ আফ্রিদি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এটি খুবই খারাপ সময় এবং খেলোয়াড়দের অসম্মান করার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যবস্থাটাও শক্তিশালী নয়।

পাকিস্তান ক্রিকেটে ঘন ঘন পরিবর্তনের এই চক্র নতুন কিছু নয়। গত তিন বছরে টেস্ট দলের অধিনায়ক তিনবার, প্রধান কোচ ছয়বার এবং পিসিবি চেয়ারম্যান পাঁচবার পরিবর্তিত হয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। অতীতেও পরাজয়ের পর খেলোয়াড়দের শাস্তির নজির রয়েছে; যেমন ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর তৎকালীন অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ ও অভিজ্ঞ ব্যাটার ইউনিস খানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল পিসিবি। আফ্রিদিসহ আরও পাঁচ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও তখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট হারের মাধ্যমে শেষ ২১ টেস্টে পাকিস্তানের হার দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় দলটি সবার নিচে অর্থাৎ নবম স্থানে অবস্থান করছে। আগের চক্রেও পাকিস্তান একই অবস্থানে শেষ করেছিল। সাদা বলের ক্রিকেটেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত বছর নিজেদের মাটিতে ২৯ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের অধিকার ফিরে পাওয়ার পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় পাকিস্তান। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তারা সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি, এমনকি তার দুই বছর আগের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লজ্জাজনক হারও ছিল।

১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক লেগ স্পিনার মুশতাক আহমেদও পাকিস্তান ক্রিকেটের পতনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে আমাদের দলে অনেক ম্যাচজয়ী ক্রিকেটার ছিল এবং শক্তিশালী ঐতিহ্য ছিল, কিন্তু এখন পতনটা অনেক গভীর এবং এটি ঠিক করতে সময় লাগবে। ওয়াসিম আকরামের মতে, লাল বলের ক্রিকেটে প্রতিভার ঘাটতি রয়েছে এবং পিসিবি চেয়ারম্যানকে এককভাবে দোষারোপ করার চেয়ে সামগ্রিক ঘরোয়া কাঠামোর দুর্বলতাগুলো সমাধান করা জরুরি। ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও কমছে বলে জানান করাচির ব্যাংকার মোহাম্মদ আফজাল। তিনি বলেন, গত দুই বছরে আমাদের আগ্রহ কমে গেছে কারণ দল ভালো করছে না। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটের পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।