ব্যালন ডি’অর জয়ে নিজেকেই সবচেয়ে যোগ্য দাবি করলেন এমবাপ্পে প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পুরো মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে না পারা এবং স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান সেমিফাইনাল থেকে শেষ হওয়া সত্ত্বেও এবারের ব্যালন ডি'অর পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকেই যোগ্য দাবি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। 'ফ্রান্স ফুটবল'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি তারকা তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হিসেবে এই স্বীকৃতি তারই পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ জিনেদিন জিদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এ বছর এটি তিনি জিততে পারেন। এটি তাঁর অন্যতম লক্ষ্য এবং স্বল্পমেয়াদী এক স্বপ্ন। ক্লাব বা দেশের হয়ে কোনো ট্রফি না জেতার আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি কখনো কাউকে সর্বসম্মতিক্রমে ব্যালন ডি'অর জিততে দেখেননি। কেউ কখনো শতভাগ ভোট পেয়ে জেতেনি, যার মানে সব সময়ই এমন কেউ না কেউ থাকে যিনি মনে করেন বিজয়ীর এটি প্রাপ্য ছিল না। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিদায়ের আগে এমবাপ্পে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি এবং লা লিগায় ২৫টি গোল করেন। এরপর বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে গিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নেন। পুরস্কারটির যোগ্য দাবিদার কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দৃঢ়কণ্ঠে এমবাপ্পে বলেন, তাঁর চেয়ে ভালো খেলোয়াড় কেউ ছিল না। সব সেরা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে এত গোল করা এবং বিশ্বকাপের মতো সর্ববৃহৎ আসরে বিশ্বরেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া নিয়ে তাঁর পুরো ছুটির সময়জুড়ে মানুষ শুধু এটি নিয়েই কথা বলেছে। ব্যালন ডি'অরের মাপকাঠি নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগ থেকে এই পুরস্কার নিয়ে তাঁর ভাবনা এসেছে। এটি সাধারণ কোনো খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় না, বরং দেওয়া হয় অনন্য ও ব্যতিক্রমী খেলোয়াড়দের। তিনি মনে করেন, এ বছর তিনি ব্যতিক্রমী কিছু করে দেখিয়েছেন, তাই এটি জয়ের ব্যাপারে তাঁর বিশ্বাস রয়েছে। বিশ্বকাপের রেকর্ড স্মরণে রোমাঞ্চিত হয়ে এমবাপ্পে জানান, বিশ্বকাপের গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা কঠিন। এটি বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের এবং ফুটবলের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের মঞ্চ। আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই নিজেকে দেশের ও টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দেখা সত্যিই অসাধারণ। এই রেকর্ডটি তিনি লিও মেসির কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন, যাকে অনেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন। এই অর্জনকে তিনি অত্যন্ত বিশেষ এবং অন্যরকম বলে অভিহিত করেন। সাক্ষাৎকারে দিদিয়ে দেশম-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ফ্রান্সের নতুন প্রধান কোচ এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের নিয়োগের প্রশংসা করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। জিদানকে ফরাসিদের কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি এবং দেশের 'জিজু' হিসেবে উল্লেখ করে এমবাপ্পে বলেন, তিনি আভিজাত্য ও মহত্ত্বের প্রতীক। খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের ইতিহাসে তিনি নিজের মুছে না যাওয়া ছাপ রেখে গেছেন। জিদান হয়তো এমন এক খেলোয়াড় যিনি ফরাসি দলকে সবচেয়ে বেশি মূর্ত করে তোলেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছেন। SHARES খেলাধুলা বিষয়: কিলিয়ান এমবাপ্পেজিনেদিন জিদানফুটবলফ্রান্স ফুটবলব্যালন ডি’অর