আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠিতে হত্যা: গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ফাহাদ এবং কামরুল। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্ত তুহিন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে সে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক স্থানে পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমকে নিয়ে যায় তুহিন ও তার সহযোগীরা। সেখানে আইফোন দেওয়ার জন্য অপ্রতিমকে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যায়।

তদন্তকারী দল তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিন জায়গায় অভিযান চালিয়েও ফোনটি পায়নি। পরবর্তীতে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে, যেমনটি রামিসা হত্যার ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিল। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে সে নিখোঁজ হয়। শনিবার সকালে লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিহতের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল, তবে ২০২৫ সালে সে ড্রপআউট হয়েছে।