জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এ সফরকে 'ঐতিহাসিক' আখ্যা দিয়ে মাহদী আমিন জানান, দীর্ঘ সময় পর দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোপূর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান, ভিশন ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাবা-মায়ের দেশপ্রেম, গণমানুষের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে বুকে ধারণ করে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাদের সন্তান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার এই অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব।

সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতে জাতিসংঘের সফর ঘিরে যে দীর্ঘ ও বিশাল বহরের সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে এসেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতেই দুই দিন সময় চলে যায়। এই যাতায়াতের দুই দিন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালের চার দিন, সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ৬ দিনের একটি সফর।

মাহদী আমিন জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানকালীন এই চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতিসংঘের সফর ঘিরে যে অহেতুক ব্যয় ও বিশাল বহরের সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ বের হয়ে এসেছেন। এবারের সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি সিকিউরিটি, মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত কিছু অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা রয়েছেন। এই প্রতিনিধিদল নিয়ে আসার একমাত্র লক্ষ্য হলো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে যেন বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

আগামী দিনের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসিপশনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল ৯টায় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন, যেখানে বিশ্বনেতারা উপস্থিত থাকবেন। সফরজুড়ে প্রতিদিনের কূটনৈতিক বৈঠকের সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমের কাছে নিয়মিত তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. সুজাউদ্দৌলাসহ প্রেস টিমের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।‌