কাউন্সিল সামনে রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনে তোড়জোড় শুরু বিএনপির প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এবার দল গোছানোয় পুরোদমে মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা জেলা, মহানগর থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন এবং শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এর সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও জোরালো হচ্ছে নেতৃত্ব বদলের গুঞ্জন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদ পূরণে নতুন কোনো কমিটি না করে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্য থেকেই পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে মৃত্যু, বহিষ্কার, পদত্যাগসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, শূন্য পদগুলোতে সংশ্লিষ্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা পদের নেতাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। জানা গেছে, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে অন্তত ৭২টিরই শেষ হয়েছে মেয়াদ। তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগঠনের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগসূত্র তৈরি করে এই জেলা কমিটিগুলো। তাই কাউন্সিলের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ এসব কমিটি ভেঙে নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে। বিএনপির পুনর্গঠনের এই ডামাডোলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের বিদায় পরবর্তী নতুন কমিটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে, যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ আরও আট মাস থাকলেও সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও তৃণমূলমুখী করার লক্ষ্যে নেতৃত্বের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক জটিলতা এড়াতে দ্রুত কমিটিগুলো কার্যকর করতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি, অতীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে পুনরায় দলে ফেরানোর বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নেতাদের সাংগঠনিক যোগ্যতা, স্থানীয় বিরোধ ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৬ সালের ১৯ মার্চের পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মামলার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের শেষ দিক থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের প্রথম ভাগের মধ্যে কাউন্সিল হতে পারে। তবে দিনক্ষণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। তৃণমূলের নেতাদের মতে, বিগত দেড় যুগ বিরোধী দলে থাকায় এবং দমন-পীড়নের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন ছিল। অনেক জেলা ও উপজেলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী নেতাদের 'পকেট কমিটি' দিয়ে দল চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আসাদুল্লাহ আসাদ জানান, অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যুক্ত হওয়ায় দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা মন্থরতা তৈরি হয়েছে। তাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা বড় পরীক্ষা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজ চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক গোলাম হাফিজের মতে, স্থানীয় নির্বাচন বিএনপির জন্য গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার বড় মঞ্চ। তৃণমূলে দলকে শক্তিশালী করতে না পারলে সরকার ও বিরোধীদলের আন্দোলন মোকাবেলায় বিএনপিকে মাশুল দিতে হবে। SHARES রাজনীতি বিষয়: কাউন্সিলতারেক-রহমানতৃণমূল পুনর্গঠনবিএনপিরাজনীতিরুহুল কবির রিজভী